Verse 1 — Surah Al-Maidah 5:1
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের অঙ্গীকারসমূহ প্রতিপালন করো। তোমাদের জন্য বৈধ করা গেল গবাদি পশু -- তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা ব্যতীত, শিকার বিধিসংগত নয় যখন তোমরা হারামে থাকো। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হুকুম করেন যা তিনি মনস্থ করেন।
Verse 2 — Surah Al-Maidah 5:2
ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহ লঙ্ঘন করো না, আর পবিত্র মাসেরও না, আর উৎসর্গকৃত পশুদেরও না, আর মালা পরানো উটদেরও না, আর পবিত্র গৃহে আশ্রয় গ্রহণকারীদেরও না যারা তাদের প্রভুর কাছ থেকে কৃপা ও সন্তোষ কামনা করছে। কিন্তু যখন তোমরা মুক্ত হয়ে যাও তখন শিকার করো। আর কোনো লোকের প্রতি বিদ্বেষ, যেহেতু তারা হারাম-মসজিদে তোমাদের যেতে বাধা দিয়েছিল, তোমাদের যেন সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। আর পরস্পরকে সাহায্য করো সৎকাজে ও ভয়-ভক্তিতে, আর পাপাচারে ও উল্লঙ্ঘনে সহায়তা করো না, আর আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করো। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ প্রতিফলদানে কঠোর।
Verse 3 — Surah Al-Maidah 5:3
তোমাদের জন্য অবৈধ হচ্ছে -- যা নিজে মারা গেছে, আর রক্ত, আর শূকরের মাংস, আর যা যবেহ্ করা হয়েছে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য নাম নিয়ে, আর যা গলাটিপে মারা হয়েছে, আর যা ধাঁধা লাগিয়ে মারা হয়েছে, আর পড়ে গিয়ে যে মরেছে, আর যা শিঙের আঘাতে মরেছে -- তোমরা যা বৈধ করেছ তা ব্যতীত, আর যা প্রস্তরবেদীতে বলি দেয়া হয়েছে, আর যা তোমরা ভাগাভাগি করেছ তীরের লটারি খেলেচ এ সমস্তই পাপাচার। যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা আজকের দিনে তোমাদের ধর্ম সন্বন্ধে হতাশ্বাস হয়েছে, কাজেই তাদের ভয় করো না, বরং ভয় করো আমাকে। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ করলাম, আর তোমাদের উপরে আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ধর্মরূপে মনোনীত করলাম ইসলাম। অতএব যে কেউ ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হয়, -- পাপের দিকে ঝোঁকে পড়ে নয়, -- তবে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হচ্ছেন পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Verse 4 — Surah Al-Maidah 5:4
তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করছে কি তাদের জন্য হালাল হয়েছে। বলো -- ''ভালো বস্তু তোমাদের জন্য বৈধ হয়েছে । আর শিকারী পশুপক্ষীদের শিকার করতে যা শিখিয়েছ -- তাদের তোমরা শিখিয়েছ যা আল্লাহ্ তোমাদের শিখিয়েছেন, কাজেই তারা তোমাদের কাছে যা ধরে আনে তা থেকে তোমরা খাও, তবে তার উপরে আল্লাহ্র নাম উল্লেখ করো। আর আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করো। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হিসেব-নিকেশে তৎপর।
Verse 5 — Surah Al-Maidah 5:5
আজ ভালো বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করা হলো। আর যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল, এবং তোমাদের খাদ্যও তাদের জন্য বৈধ। আর মুমিনদের মধ্যের সতী-সাধ্বী নারী, আর তোমাদের আগে যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যের সতী-সাধ্বী নারীও, যখন তোমরা তাদের মহরানা আদায় করেছ, সচ্চরিত্রভাবে, ব্যভিচারের জন্য নয় ও রক্ষিতারূপে গ্রহণ করেও নয়। আর যে কেউ ঈমান অস্বীকার করে সে তাহলে তার আচরণ ব্যর্থ করেছে, আর সে পরকালে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যেকার।
Verse 6 — Surah Al-Maidah 5:6
ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমরা নামাযে খাড়া হও তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত ধোও, আর তোমাদের মাথা ও গোড়ালি পর্যন্ত তোমাদের পা মূসেহ্ করো। আর যদি তোমরা যৌন সম্ভোগের পরবর্তী অবস্থায় থাকো তবে ধৌত করো। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে এসেছ, অথবা স্ত্রীদের স্পর্শ করেছ, আর যদি পানি না পাও তবে তৈয়ম্মুম করো বিশুদ্ধ মাটি নিয়ে, আর তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও তোমাদের হাত মূসেহ্ করো। আল্লাহ্ চান না তোমাদের উপরে কষ্টের কিছু আরোপ করতে, কিন্তু তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে, আর যাতে তাঁর নিয়ামত তোমাদের উপরে পরিপূর্ণ করেন, যেন তোমরা ধন্যবাদ দিতে পারো।
Verse 7 — Surah Al-Maidah 5:7
আর স্মরণ করো তোমাদের উপরে আল্লাহ্র নিয়ামত আর তাঁর অঙ্গীকার যার দ্বারা তিনি তোমাদের অঙ্গীকারবদ্ধ করেছিলেন, যখন তোমরা বলেছিলে -- ''আমরা শুনেছি আর আমরা আজ্ঞাপালন করছি।’’ আর আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করো। নিঃসন্দেহ বুকের ভিতরে যা আছে আল্লাহ্ সে-সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।
Verse 8 — Surah Al-Maidah 5:8
ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ্র জন্য দৃঢ়-প্রতিষ্ঠাতা হও, ন্যায়-বিচারে সাক্ষ্যদাতা হও, আর কোনো লোকদলের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন ন্যায়াচরণ না করতে তোমাদের প্ররোচিত না করে। ন্যায়াচরণ করো, এটিই হচ্ছে ধর্মভীরুতার নিকটতর। আর আল্লাহ্কে ভয়-শ্রদ্ধা করো। নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছো আল্লাহ্ তার পূর্ণ-ওয়াকিফহাল।
Verse 9 — Surah Al-Maidah 5:9
আল্লাহ্ ওয়াদা করছেন -- যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে পরিত্রাণ আর বিরাট পুরস্কার।
Verse 10 — Surah Al-Maidah 5:10
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে আর আমাদের নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করে, -- এরা হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা।
Verse 11 — Surah Al-Maidah 5:11
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের উপরে আল্লাহ্র নিয়ামত স্মরণ করো -- যখন একটি দল দৃঢ়সঙ্কল্প করেছিল তোমাদের দিকে তাদের হাত বাড়াতে, কিন্তু তিনি তোমাদের বিরুদ্ধে তাদের হাত ঠেকিয়ে রেখেছিলেন, কাজেই আল্লাহ্কে ভয়-শ্রদ্ধা করো। আর আল্লাহ্র উপরেই তবে নির্ভর করুক মুমিন সব।
Verse 12 — Surah Al-Maidah 5:12
আর আল্লাহ্ অবশ্যই ইসরাইলের বংশধর থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন, আর আমরা তাদের মধ্যে থেকে বারো জন দলপতি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর আল্লাহ্ বলেছিলেন -- ''নিঃসন্দেহ আমি তোমাদের সঙ্গে রয়েছি। যদি তোমরা নামায কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো, আর আমার রসূলদের প্রতি ঈমান আনো ও তাঁদের সমর্থন করো, আর আল্লাহ্কে ধার দাও পর্যাপ্ত-সুন্দর ঋণ, তবে আমি নিশ্চয়ই তোমাদের থেকে তোমাদের সব পাপ মোছে দেব ও তোমাদের প্রবেশ করাবো উদ্যানসমূহে যাদের নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি। কিন্তু এর পরে তোমাদের মধ্যের যে কেউ অবিশ্বাস পোষণ করবে সে-ই তবে নিশ্চয়ই সরল পথের দিশা হারিয়েছে।’’
Verse 13 — Surah Al-Maidah 5:13
তারপর নিজেদের অঙ্গীকার তাদের ভঙ্গ করার দরুন আমরা তাদের বঞ্চিত করলাম আর তাদের অন্তরকে কঠিন হতে দিলাম। তারা কালামগুলো তাদের স্থান থেকে সরিয়ে দেয়, আর তাদের যে-সব নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তার অংশবিশেষ ভুলে যায়, আর তাদের লোকদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা আবিস্কার করার অবসান তোমার থাকবে না তাদের অল্প ছাড়া, সেজন্য তাদের ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ভালোবাসেন সৎকর্মীদের।
Verse 14 — Surah Al-Maidah 5:14
আর যারা বলে -- 'নিঃসন্দেহ আমরা খ্রীষ্টান’, তাদের থেকে আমরা তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম, তারাও ভু লে গেল তাদের যে-সব নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার অংশবিশেষ, কাজেই আমরা তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখলাম কিয়ামতের দিন পর্যন্ত। আর অচিরেই আল্লাহ্ তাদের জানিয়ে দেবেন তারা কি করে যাচ্ছিল।
Verse 15 — Surah Al-Maidah 5:15
হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা! আমাদের রসূল তোমাদের কাছে ইতিমধ্যে এসে গেছেন, ধর্মগ্রন্থের যা তোমরা লুকোচ্ছিলে তার বহুলাংশ তিনি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করেছেন, এবং অনেকটা তিনি উপেক্ষা করেছেন। আল্লাহ্র কাছ থেকে তোমাদের কাছে নিশ্চয়ই এসেছে এক জ্যোতি আর উজ্জ্বল কিতাব
Verse 16 — Surah Al-Maidah 5:16
এর দ্বারা আল্লাহ্ তাকে হেদায়ত করেন যে তাঁর সন্তষ্টি অনুসরণ করে শান্তির পথে, আর তাদের বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে তাঁর ইচ্ছায়, আর তাদের পরিচালিত করেন সহজ-সঠিক পথের দিকে।
Verse 17 — Surah Al-Maidah 5:17
তারা নিশ্চয়ই অবিশ্বাস পোষণ করে যারা বলে -- ''নিঃসন্দেহ আল্লাহ্, তিনিই মসীহ্, মরিয়মের পুত্র।’’ তুমি বলো -- ''কার তাহলে বিন্দুমাত্র ক্ষমতা আছে আল্লাহ্র বিরুদ্ধে যখন তিনি চেয়েছিলেন মরিয়ম-পুত্র মসীহ্কে বিনাশ করতে, আর তাঁব মাতাকে, আর পৃথিবীতে যারা ছিল তাদের সবাইকে?’’ বস্তুতঃ আল্লাহ্রই মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব আর এই দুইয়ের মধ্যে যা আছে। তিনি সৃষ্টি করেন যা তিনি ইচ্ছে করেন। আর আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
Verse 18 — Surah Al-Maidah 5:18
আর ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা বলে -- ''আমরা আল্লাহ্র সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র।’’ তুমি বলো -- ''তবে কেন তোমাদের অপরাধের জন্য তিনি তোমাদের শাস্তি দেন? না, যাদের তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমরা তাদের মধ্যেকার মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছে করেন পরিত্রাণ করেন এবং যাকে ইচ্ছে করেন শাস্তি দেন।’’ আর আল্লাহ্রই মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সাম্রাজ্য এবং এই দুইয়ের মধ্যে যা আছে, আর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন।
Verse 19 — Surah Al-Maidah 5:19
হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা! তোমাদের কাছে নিশ্চয়ই আমাদের রসূল এসেছেন তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট করতে, রসূলদের এক বিরতির পরে, পাছে তোমরা বলো -- 'আমাদের কাছে সুসংবাদদাতাদের কেউ আসেন নি এবং সতর্ককারীও না।’ এখন তোমাদের কাছে নিশ্চয়ই এসেছেন একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। আর আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
Verse 20 — Surah Al-Maidah 5:20
আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর লোকদের বলেছিলেন -- ''হে আমার লোকদল! তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র নিয়ামত স্মরণ করো যখন তিনি তোমাদের মধ্যে নবীদের নিযুক্ত করেছিলেন এবং তোমাদের বানিয়েছিলেন রাজা-রাজড়া, আর তোমাদের দিয়েছিলেন যা তিনি মানবগোষ্ঠীর মধ্যে অপর কাউকেও দেন নি।
Verse 21 — Surah Al-Maidah 5:21
হে আমার লোকদল! সেই পুণ্য ভূমিতে প্রবেশ করো যা আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বিধান করেছেন, আর তোমাদের পেছন দিকে ফিরে যাবে না, কেননা তোমরা তাহলে মোড় ফেরাবে ক্ষতিগ্রস্তভাবে।’’
Verse 22 — Surah Al-Maidah 5:22
তারা বললে -- ''হে মূসা! নিঃসন্দেহ ওতে রয়েছে বিশালকায় লোকেরা, আর আমরা কখনো ওতে প্রবেশ করবো না যে পর্যন্ত না তারা ওখান থেকে বেরিয়ে যায়। কাজেই তারা যদি ওখান থেকে বেরিয়ে যায় তবে আমরা অবশ্যই প্রবেশ করবো।’’
Verse 23 — Surah Al-Maidah 5:23
যারা ভয় করতো তাদের মধ্যের দুজন লোক -- যাদের উপরে আল্লাহ্ অনুগ্রহ করেছিলেন, তারা বললে -- ''তাদের উপরে ঢুকে পড়ো দরজা দিয়ে, কাজেই যখন তোমরা তাতে প্রবেশ করবে তোমরা তখন নিশ্চয়ই বিজয়ী হবে, আর আল্লাহ্র উপরে তবে তোমরা নির্ভর করো, যদি তোমরা মুমিন হও।’’
Verse 24 — Surah Al-Maidah 5:24
তারা বললে -- ''হে মূসা! আমরা নিশ্চয়ই কখনো এতে ঢুকবো না যতক্ষণ তারা ওর মধ্যে অবস্থান করছে। কাজেই তুমি ও তোমার প্রভু এগিয়ে যাও এবং তোমরা দুজনে যুদ্ধ করো, আমরা নিশ্চয়ই এখানে বসে পড়লাম।’’
Verse 25 — Surah Al-Maidah 5:25
তিনি বললেন, ''আমার প্রভু! নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের ও আমার ভাইয়ের উপরে ছাড়া কর্তৃত্ব রাখি না, অতএব আমাদের ও দুষ্কৃতিপরায়ণ লোকদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি ঘটিয়ে দাও।’’
Verse 26 — Surah Al-Maidah 5:26
তিনি বললেন -- ''তবে নিঃসন্দেহ এটি তাদের জন্য হারাম থাকবে চল্লিশ বৎসর কাল, তারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াবে। অতএব দুঃখ করো না এই দুষ্কৃতিপরায়ণ জাতির জন্য।
Verse 27 — Surah Al-Maidah 5:27
আর তাদের কাছে সঠিকভাবে বর্ণনা করো দুই আদম-সন্তানের কাহিনী, কেমন ক’রে তারা উভয়ে কুরবানি করেছিল, কিন্তু তা কবুল হল তাদের একজনের কাছ থেকে আর অপরজনের কাছ থেকে তা গৃহীত হল না। সে বললে -- ''নিশ্চয় আমি তোমাকে খুন করবো।’’ সে বললে -- ''আল্লাহ্ কবুল করেন শুধু ধর্মভীরুদের থেকে।
Verse 28 — Surah Al-Maidah 5:28
তুমি যদি আমার দিকে তোমার হাত বাড়াও আমাকে হত্যা করতে, আমি কিন্তু তোমার দিকে আমার হাত প্রসারণকারী হবো না তোমাকে হত্যা করতে। নিঃসন্দেহ আমি ভয় করি আল্লাহ্কে -- সমগ্র বিশ্বজগতের প্রভু।
Verse 29 — Surah Al-Maidah 5:29
নিঃসন্দেহ আমি চাই যে তুমি আমার বিরুদ্ধে পাপ ও তোমার পাপ বহন করো, ফলে আগুনের বাসিন্দাদের দলভুক্ত হও, আর এই-ই অন্যায়কারীদের প্রতিফল।’’
Verse 30 — Surah Al-Maidah 5:30
কিন্তু তার মন তাকে প্রবুদ্ধ করলো তার ভাইকে হত্যা করতে, তাই সে তাকে খুন করলো, কাজেই পরমূহূর্তে সে হলো ক্ষতিগ্রস্তদের দলের।
Verse 31 — Surah Al-Maidah 5:31
তারপর আল্লাহ্ একটি কাককে নিযুক্ত করলেন মাটি আচঁড়াতে যেন তাকে দেখানো যায় কেমন ক’রে সে তার ভাইয়ের মৃতদেহ ঢাকবে। সে বললে -- ''হায় দুর্ভাগ্য! আমি কি এই কাকের মতো হবার জন্য এতই দুর্বল হয়ে গেছি, কাজেই আমি যেন আমার ভাইয়ের শব ঢাকতে পারি?’’ সেজন্য পরমুহূর্তে সে হলো অনুতপ্তদের দলের
Verse 32 — Surah Al-Maidah 5:32
এই কারণ বশতঃ আমরা বিধিবদ্ধ করেছিলাম ইসরাইল-বংশীয়দের জন্যে -- যে, যে কেউ হত্যা করে একজন মানুষকে আরেকজনকে ব্যতীত, অথবা দেশে ফসাদ সৃষ্টি, তাহলে সে যেন লোকজনকে সর্বসাকল্যে হত্যা করলে। আবার যে কেউ তাকে বাঁচিয়ে রাখে, সে যেন তাহলে সমস্ত লোকজনকে বাঁচালে। আর নিশ্চয়ই তাদের কাছে আমাদের রসূলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তাদের মধ্যের অনেকেই এর পরেও পৃথিবীতে সীমা ছাড়িয়ে চলে।
Verse 33 — Surah Al-Maidah 5:33
যারা আল্লাহ্র ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আর দেশে গন্ডগোল বাঁধাতে তৎপর হয় তাদের একমাত্র প্রাপ্য হচ্ছে -- তাদের কাতল করো, অথবা শূলে চড়াও, অথবা তাদের হাত ও তাদের পা বিপরীত দিকে কেটে ফেলো, অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করো। এটি হচ্ছে তাদের জন্য ইহলোকে লাঞ্ছনা, আর তাদের জন্য পরকালে রয়েছে কঠোর শাস্তি
Verse 34 — Surah Al-Maidah 5:34
তারা ব্যতীত যারা তওবা করে তোমরা তাদের উপরে ক্ষমতাসীন হবার পূর্বে, তাহলে জেনে রেখো যে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Verse 35 — Surah Al-Maidah 5:35
ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ্কে ভয়-শ্রদ্ধা করো, আর তাঁর দিকে অছিলা অন্বেষণ করো, আর তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।
Verse 36 — Surah Al-Maidah 5:36
নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে -- পৃথিবীতে যা আছে সে-সমস্তই যদি তাদের হতো এবং তার সাথে সেই পরিমাণে, যার বিনিময়ে তারা মুক্তি কামনা করতো কিয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে, তাদের কাছ থেকে তা কবুল হতো না, আর তাদের জন্য রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি।
Verse 37 — Surah Al-Maidah 5:37
তারা চাইবে যেন সেই আগুন থেকে তারা বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু তা থেকে তারা বেরিয়ে যাবার নয়, আর তাদের জন্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী শাস্তি।
Verse 38 — Surah Al-Maidah 5:38
আর চোরা পুরুষ ও চোরা স্ত্রীলোক -- দুইয়েরই তবে হাত কেটে ফেলো, -- তারা যা করেছে তার প্রতিফলস্বরূপ, -- এটি আল্লাহ্র তরফ থেকে একটি দৃষ্টান্ত-স্থাপনকারী শাস্তি। আর আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।
Verse 39 — Surah Al-Maidah 5:39
কিন্তু যে কেউ তওবা করে তার অন্যায়াচরণের পরে আর সংশোধন কবে, তাহলে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ তার দিকে ফিরবেন। নিঃসেন্দহ আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Verse 40 — Surah Al-Maidah 5:40
তুমি কি জানো না যে আল্লাহ -- মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই? তিনি শাস্তি দেন যাকে ইচ্ছে করেন আর ক্ষমাও করেন যাকে ইচ্ছে করেন। আর আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
Verse 41 — Surah Al-Maidah 5:41
হে প্রিয় রসূল! যারা অবিশ্বাসের অভিমুখে ধাওয়া করেছে তারা যেন তোমাকে দুঃখিত না করে, যারা তাদের মুখে বলে -- 'আমরা ঈমান এনেছি’, কিন্তু তাদের হৃদয় ঈমান আনে নি, আর যারা ইহুদীয় মত পোষণ করে, -- মিথ্যার জন্যে শ্রবণকারী, শ্রবণকারী অন্য লোকদের জন্যে যারা তোমার কাছে আসে না। তারা কথাগুলো সরিয়ে দেয় সেগুলোকে যথাস্থানে স্থাপনের পরে, তারা বলে -- ''তোমাদের যদি এই দেওয়া হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তোমাদের এই দেয়া না হয় তবে সাবধান হও।’’ আর যাকে তার প্রলোভনের মধ্যে আল্লাহ্ চান, তার জন্য আল্লাহ্র কাছ থেকে কিছু করার ক্ষমতা তোমার নেই। এরাই তারা যাদের সন্বন্ধে আল্লাহ্ চান না যে তাদের হৃদয় বিশুদ্ধ হোক। এদের জন্য এই দুনিয়াতে রয়েছে দুর্গতি, আর পরকালে এদের জন্য কঠোর শাস্তি।
Verse 42 — Surah Al-Maidah 5:42
তারা মিথ্যার জন্যে শ্রবণকারী, নিষিদ্ধের ভক্ষণকারী। অতএব তারা যদি তোমার কাছে আসে তবে তাদের মধ্যে বিচার করো, অথবা তাদের থেকে গুটিয়ে নাও, আর যদি তুমি তাদের থেকে গুটিয়ে নাও তবে তারা কখনো তোমার মোটেই ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তুমি বিচার করো তবে তাদের মধ্যে বিচার করো ন্যায়পরায়ণতার সাথে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ভালোবাসেন ভারসাম্যরক্ষাকারীদের।
Verse 43 — Surah Al-Maidah 5:43
আর কেমন ক’রে তারা তোমাকে বিচারক করে, আর তাদের কাছে রয়েছে তওরাত যাতে আছে আল্লাহ্র বিধান? তবুও তারা ফিরে যায় এ-সবের পরেও! আর এমন লোকেরা মুমিন নয়।
Verse 44 — Surah Al-Maidah 5:44
নিঃসন্দেহ আমরা অবতীর্ণ করেছি তওরাত, যাতে রয়েছে হেদায়ত ও দীপ্তি। তার দ্বারা নবীগণ, যাঁরা ইসলামী ধর্মমত পোষণ করেন, বিধান দিয়েছিলেন তাদের যারা ইহুদীয় মত পোষণ করে, আর রব্বিসব ও পুরোহিতরা আল্লাহ্র কিতাবের যা তারা সংরক্ষণ করতো তারদ্বারা, আর তারা সে-সবের সাক্ষী ছিল। সেজন্য তোমরা লোকজনকে ভয় করো না, বরং ভয় করো আমাকে, আর আমার বাণীসমূহের জন্য স্বল্পমূল্য কামাতে যেয়ো না। আর যারা বিচার করে না আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তার দ্বারা, তারা তবে নিজেরাই অবিশ্বাসী।
Verse 45 — Surah Al-Maidah 5:45
আর আমরা তাদের জন্য তাতে বিধান করেছিলাম -- প্রাণের বদলে প্রাণ, আর চোখের বদলে চোখ, আর নাকের বদলে নাক, আর কানের বদলে কান, আর দাঁতের বদলে দাঁত, আর জখমেরও বদলাই। আর যে কেউ এটি দিয়ে দান করে দেয়, সেটি তা হলে তার জন্য হবে প্রায়শ্চিত্ত। আর যে বিচার করে না আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দ্বারা, তাহলে তারা নিজেরাই হচ্ছে অন্যায়কারী।
Verse 46 — Surah Al-Maidah 5:46
আর তাদের পশ্চাতে আমরা পাঠিয়েছিলাম মরিয়ম-পুত্র ঈসাকে, তাঁর পূর্বে তওরাতে যা ছিল তার প্রতিপাদকরূপে, আর তাঁকে আমরা দিয়েছিলাম ইনজীল যাতে রয়েছে পথপ্রদর্শন ও দীপ্তি, এর পূর্বে তওরাতে যা ছিল তার সত্য-সমর্থনরূপে, আর পথপ্রদর্শন ও উপদেশ ধর্মপরায়ণদের জন্য।
Verse 47 — Surah Al-Maidah 5:47
আর ইনজীলের অনুবর্তীদের উচিত তারা যেন বিচার করে আল্লাহ্ তাতে যা অবতারণ করেছেন তার দ্বারা। আর যে বিচার করে না আল্লাহ্ যা অবতারণ করেছেন তার দ্বারা, তারা তবে নিজেরাই হচ্ছে দুষ্কৃতিপরায়ণ।
Verse 48 — Surah Al-Maidah 5:48
আর তোমার কাছে আমরা অবতারণ করেছি এই কিতাব সত্যের সাথে, এবং পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থে যা আছে তার সত্য-সমর্থনরূপে, আর তার উপরে প্রহরীরূপে, সেজন্য তাদের মধ্যে বিচার করো যা আল্লাহ্ নাযিল করেছেন তার দ্বারা, আর তাদের হীন-বাসনার অনুসরণ করো না তোমার প্রতি সত্যের যা এসেছে তার প্রতি বিমুখ হয়ে। তোমাদের মধ্যের প্রত্যেকের জন্য আমরা নির্ধারণ করেছিলাম এক-একটি শরিয়ৎ ও এক-একটি পথ। আর যদি আল্লাহ্ ইচ্ছে করতেন তবে তিনি তোমাদের বানাতেন একই জাতি, কিন্তু তিনি যেন তোমাদের যাচাই করতে পারেন তোমাদের যা তিনি দিয়েছেন তার দ্বারা, কাজেই ভালোকাজে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহ্র কাছে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তোমাদের অবহিত করবেন সেইসব বিষয়ে যাতে তোমরা মতভেদ করছিলে।
Verse 49 — Surah Al-Maidah 5:49
আর তুমি যেন তাদের মধ্যে বিচার করো আল্লাহ্ যা অবতারণ করেছেন তার দ্বারা আর তাদের হীন-বাসনার অনুসরণ করো না, আর তাদের সম্পর্কে সাবধান হও পাছে তারা তোমাকে ভ্রান্তিতে ফেলে দেয় আল্লাহ্ তোমার কাছে যা অবতারণ করেছেন তার কোনো অংশ থেকে। তারা যদি তবে ফিরে যায় তাহলে জেনে রেখো যে আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তাদের পাকড়াও করতে চান তাদের কতকগুলো অপরাধের জন্য। আর নিঃসন্দেহ লোকদের অধিকাংশই দুষ্কৃতিপরায়ণ।
Verse 50 — Surah Al-Maidah 5:50
তবে কি তারা অজ্ঞতার যুগের বিচার ব্যবস্থা চায়? আর আল্লাহ্র চাইতে কে বেশি ভালো বিচার ব্যবস্থায় সেই সম্প্রদায়ের জন্যে যারা সুনিশ্চিত
Verse 51 — Surah Al-Maidah 5:51
ওহে যারা ঈমান এনেছ! ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তাদের একদল অন্যদের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যের যে তাদের মুরব্বী বানায় সে তবে নিশ্চয় তাদেরই মধ্যেকার। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ পথ দেখান না অন্যায়কারী সম্প্রদায়কে।
Verse 52 — Surah Al-Maidah 5:52
কাজেই যাদের অন্তরে ব্যারাম রয়েছে তাদের তুমি দেখতে পাবে তাদের দিকে ছুটে যেতে এই বলে -- ''আমরা আশঙ্কা করছি কোনো দুর্যোগ আমাদের উপরে ঘটে যায়।’’ কিন্তু হতে পারে যে আল্লাহ্ এনে দেবেন বিজয় অথবা তাঁর কাছ থেকে চুড়ান্ত নিস্পত্তি, তাই তাদের অন্তরে তারা যা পোষণ করছিল তার জন্য পরমুহূর্তেই তারা হলো অনুতাপী।
Verse 53 — Surah Al-Maidah 5:53
আর যারা ঈমান এনেছে তারা বলবে -- ''এরাই কি তারা যারা আল্লাহ্র নামে তাদের জোরালো আস্থার সাথে শপথ গ্রহণ করেছিল যে তারা সুনিশ্চিত তোমাদের সঙ্গে?’’ তাদের ক্রিয়াকলাপ বৃথা গেল, কাজেই পরমুহূর্তে তারা হলো ক্ষতিগ্রস্ত।
Verse 54 — Surah Al-Maidah 5:54
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের মধ্যে থেকে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, আল্লাহ্ তবে শীঘ্রই নিয়ে আসবেন একটি সম্প্রদায় -- তাদের তিনি ভালোবাসবেন ও তারা তাঁকে ভালোবাসবে, মুমিনদের প্রতি বিনীত, অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর, তারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করবে, আর ভয় করবে না কোনো নিন্দুকের নিন্দা। এই হচ্ছে আল্লাহ্র এক আশিস -- তিনি তা প্রদান করেন যাকে তিনি ইচ্ছে করেন। আর আল্লাহ্ পরম বদান্য, সর্বজ্ঞাতা।
Verse 55 — Surah Al-Maidah 5:55
নিঃসন্দেহ তোমাদের ওলী হচ্ছেন কেবলমাত্র আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূল, আর যারা ঈমান এনেছে, আর যারা নামায কায়েম করে, আর যাকাত আদায় করে, আর তারা রুকুকারী।
Verse 56 — Surah Al-Maidah 5:56
আর যে কেউ বন্ধুরূপে গ্রহণ করে আল্লাহ্কে, ও তাঁর রসূলকে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের, তাহলে আল্লাহ্র দল, তারাই হবে বিজয়ী।
Verse 57 — Surah Al-Maidah 5:57
ওহে যারা ঈমান এনেছ! যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাসের ও খেলার সামগ্রীরূপে গ্রহণ করেছে -- তোমাদের পূর্বে যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে ও অবিশ্বাসকারীরা, -- তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর আল্লাহ্কে ভয়-শ্রদ্ধা করো যদি তোমরা মুমিন হও।
Verse 58 — Surah Al-Maidah 5:58
আর যখন তোমরা নামাযের জন্য আহ্বান করো, তারা তাকে বিদ্রূপের ও খেলার জিনিসরূপে গ্রহণ করে। সেটি এই জন্য যে তারা এমন একটি দল যারা বুঝে না।
Verse 59 — Surah Al-Maidah 5:59
তুমি বলো -- ''হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা! তোমরা কি আমাদের কোনো দোষ ধরো এ ব্যতীত যে আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহ্তে, আর যা আমাদের কাছে নাযিল হয়েছে, আর যা পূর্বে নাযিল হয়েছিল? আর নিশ্চয় তোমাদের অধিকাংশই দুষ্কৃতিপরায়ণ।’’
Verse 60 — Surah Al-Maidah 5:60
বলো -- ''তোমাদের কি জানাবো এর চেয়েও খারাপদের কথা, আল্লাহ্র কাছে প্রতিফল পাওয়া সন্বন্ধে? যাকে আল্লাহ্ ধিক্কার দিয়েছেন, আর যার উপরে তিনি ক্রোধ বর্ষণ করেছেন, আর তাদের মধ্যের কাউকে তিনি বানালেন বানর, আর শূকর, আর যে উপাসনা করত তাগুতকে। এরা আছে অতি মন্দ অবস্থায়, আর সরল পথ থেকে সুদূর পথভ্রষ্ট।
Verse 61 — Surah Al-Maidah 5:61
আর যখন তারা তোমাদের কাছে আসে তারা বলে -- 'আমরা ঈমান এনেছি’, কিন্তু আসলে তারা ভরতি হয়েছিল অবিশ্বাস নিয়ে আর এখন বেরিয়েও গেছে তাতেই। আর আল্লাহ্ ভালো জানেন কি তারা লুকোচ্ছে।
Verse 62 — Surah Al-Maidah 5:62
আর তুমি দেখতে পাবে তাদের অনেকেই ছুটে চলেছে পাপের দিকে ও উল্লঙ্ঘনে, আর তাদের গলাধঃকরণে অবৈধভাবে লব্ধ বস্তু। নিশ্চয়ই গর্হিত যা তারা করে চলেছে।
Verse 63 — Surah Al-Maidah 5:63
রব্বিগণ ও পুরোহিতরা কেন তাদের নিষেধ করে না তাদের পাপপূর্ণ কথাবার্তা বলাতে আর তাদের গ্রাস-করণে অবৈধভাবে লব্ধ বস্তু। অবশ্যই গর্হিত যা তারা করে যাচ্ছে।
Verse 64 — Surah Al-Maidah 5:64
আর ইহুদীরা বলে -- ''আল্লাহ্র হাত বাঁধা রয়েছে।’’ তাদের হাত রয়েছে বাঁধা, আর তারা ধিক্কারপ্রাপ্ত যা তারা বলে সেজন্য। না, তাঁর দুই হাতই পূর্ণ-প্রসারিত, -- তিনি বিতরণ করেন যেমন তিনি চান। আর তোমার প্রভুর কাছ থেকে তোমার কাছে যা নাযিল হয়েছে তা নিশ্চয়ই বাড়িয়ে দেয় তাদের মধ্যের অনেকের অবাধ্যতা ও অবিশ্বাস। আর আমরা তাদের মধ্যে ছুঁড়ে দিয়েছি শত্রুতা ও বিদ্বেষ কিয়ামতের দিন পর্যন্ত। যতবার তারা যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে তুলে, আল্লাহ্ তা নিভিয়ে দেন, কিন্তু তারা দেশে গন্ডগোল করার চেষ্টা চালাতেই থাকে। আর আল্লাহ্ ভালোবাসেন না গন্ডগোল সৃষ্টিকারীদের।
Verse 65 — Surah Al-Maidah 5:65
আর যদি গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা ঈমান আনতো এবং ভয়-শ্রদ্ধা করতো, তবে নিশ্চয়ই আমরা তাদের দোষ-ত্রুটি তাদের থেকে মুছে দিতাম, আর তাদের অবশ্যই প্রবেশ করাতাম আনন্দময় স্বর্গোদ্যানে।
Verse 66 — Surah Al-Maidah 5:66
আর যদি তারা প্রতিষ্ঠিত রাখতো তওরাত ও ইনজীল, আর তাদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছিল তাদের প্রভুর কাছ থেকে তবে তারা নিশ্চয়ই আহার করতো তাদের উপর থেকে আর তাদের পায়ের নিচে থেকে। তাদের মধ্যেও একটি নরমপন্থী দল রয়েছে, কিন্তু তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই -- তারা যা করে তা হচ্ছে গর্হিত।
Verse 67 — Surah Al-Maidah 5:67
হে প্রিয় রসূল! তোমার প্রভুর কাছ থেকে যা তোমার কাছে অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করো। আর যদি তুমি তা না করো তবে তাঁর বাণী তুমি প্রচার করলে না। আর আল্লাহ্ লোকদের থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ অবিশ্বাসী লোকদের পথপ্রদর্শন করেন না।
Verse 68 — Surah Al-Maidah 5:68
বলো -- ''হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা! তোমরা কোনো কিছুর উপরে নও যে পর্যন্ত না তোমরা প্রতিষ্ঠিত রাখো তওরাত ও ইনজীল আর যা তোমাদের কাছে অবতীর্ণ হয়েছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে।’’ আর তোমার কাছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা নিশ্চয়ই বাড়িয়ে দেয় তাদের মধ্যের অনেকের অবাধ্যতা ও অবিশ্বাস। সেজন্য দুঃখ করো না অবিশ্বাসী লোকদের জন্য।
Verse 69 — Surah Al-Maidah 5:69
নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও যারা ইহুদী মত পোষণ করে, আর সাবেঈন ও খ্রীষ্টান, -- যারাই আল্লাহ্র প্রতি ঈমান এনেছে ও আখেরাতের দিনের প্রতি, আর সৎকর্ম করে, তাদের উপরে তা হলে কোনো ভয় নেই, আর তারা নিজেরা অনুতাপও করবে না।
Verse 70 — Surah Al-Maidah 5:70
আমরা নিশ্চয়ই ইসরাইলের বংশধরদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম আর তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম রসূলগণ। যখনই তাদের কাছে কোনো রসূল এসেছেন তা নিয়ে যা তাদের মন চায় না, কিছুসংখ্যককে তারা মিথ্যারোপ করেছে আর কাউকে করতে গেছে হত্যা।
Verse 71 — Surah Al-Maidah 5:71
আর তারা ভেবেছিল যে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে না, সেজন্য তারা হলো অন্ধ আর বধির, এরপর আল্লাহ্ তাদের দিকে ফিরলেন। তারপরেও তাদের অনেকে অন্ধ ও বধির হলো। আর তারা যা করে আল্লাহ্ তার দর্শক।
Verse 72 — Surah Al-Maidah 5:72
নিশ্চয়ই তারা অবিশ্বাস পোষণ করে থাকে যারা বলে -- ''নিঃসন্দেহ আল্লাহ্, তিনিই মসীহ্, মরিয়মের পুত্র।’’ অথচ মসীহ্ বলেছেন -- ''হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আল্লাহ্র এবাদত করো যিনি আমার প্রভু ও তোমাদেরও প্রভু।’’ নিঃসন্দেহ যে আল্লাহ্র সঙ্গে অংশীদার নিরূপণ করে, আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তার জন্য নিষিদ্ধ করেছেন স্বর্গোদ্যান, আর তার আবাসস্থল হচ্ছে আগুন। আর অন্যায়কারীদের জন্য থাকবে না কোনো সাহায্যকারী।
Verse 73 — Surah Al-Maidah 5:73
তারা নিশ্চয়ই অবিশ্বাস পোষণ করে যারা বলে -- ''নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হচ্ছেন তিনজনের তৃতীয়জন।’’ বস্তুতঃ একক খোদা ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। আর যা তারা বলছে তা থেকে যদি তারা না থামে, তবে তাদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের পাকড়াবে ব্যথাদায়ক শাস্তি।
Verse 74 — Surah Al-Maidah 5:74
তবে কি তারা আল্লাহ্র দিকে ফিরবে না, আর তারা তাঁর ক্ষমা-প্রার্থনা করবে কি? আর আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Verse 75 — Surah Al-Maidah 5:75
মরিয়ম-পুত্র মসীহ্ রসূল বৈ নন। তাঁর পূর্বে রসূলগণ নিশ্চয়ই গত হয়ে গেছেন। আর তাঁর মাতা ছিলেন একজন সত্যপরায়ণা নারী। তাঁরা উভয়ে খাদ্য খেতেন। দেখো, কিভাবে আমরা তাদের জন্য আমার বাণী সুস্পষ্ট করি, তারপর দেখো, কেমন করে তারা ঘুরে যায়।
Verse 76 — Surah Al-Maidah 5:76
বলো -- ''তোমরা আল্লাহ্কে ছেড়ে দিয়ে কি তার এবাদত করো যার কোনো ক্ষমতা নেই তোমাদের জন্য অপকারের, না কোনো উপকারের? আর আল্লাহ্, -- তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।’’
Verse 77 — Surah Al-Maidah 5:77
বলো -- ''হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা! তোমাদের ধর্মমতে বাড়াবাড়ি করো না সত্য কারণ ছাড়া, আর লোকদের হীন-কামনার অনুবর্তী হয়ো না, -- যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছিল আর বহুজনকে করেছিল পথহারা, আর বিপথে গিয়েছিল সরল পথ থেকে।
Verse 78 — Surah Al-Maidah 5:78
ইসরাইলের বংশধরদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তারা অভিশপ্ত হয়েছিল দাউদ ও মরিয়ম-পুত্র ঈসার জিহবার দ্বারা। এটি হয়েছিল, কেননা তারা অবাধ্য হয়েছিল আর করতো সীমালঙ্ঘন।
Verse 79 — Surah Al-Maidah 5:79
তারা পরস্পরকে নিষেধ করতো না কুকর্ম সন্বন্ধে যা তারা করতো। নিশ্চয়ই মন্দ যা তারা করে চলতো।
Verse 80 — Surah Al-Maidah 5:80
তুমি দেখতে পাবে তাদের মধ্যের অনেকে বন্ধু বানিয়েছে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের। নিশ্চয়ই মন্দ যা তাদের জন্য তাদের আত্মা আগবাড়িয়েছে যার দরুন আল্লাহ্ তাদের উপরে হয়েছেন অসন্তষ্ট, আর শাস্তির মধ্যেই তারা কাটাবে দীর্ঘকাল।
Verse 81 — Surah Al-Maidah 5:81
আর যদি তারা ঈমান এনে থাকতো আল্লাহ্তে ও নবীর প্রতি, আর যা তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তবে তারা ওদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যের অনেকেই দুষ্কৃতিপরায়ণ।
Verse 82 — Surah Al-Maidah 5:82
তুমি নিশ্চয়ই দেখতে পাবে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর লোক হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরীক করে, আর নিশ্চয়ই তুমি আবিস্কার করবে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে বন্ধুত্বে সব চাইতে তাদের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ওরা যারা বলে -- ''নিঃসন্দেহ আমরা খ্রীষ্টান।’’ এটি এই জন্য যে তাদের মধ্যে রয়েছে পাদরীরা ও সাধুসন্ন্যাসীরা, আর যেহেতু তারা অহঙ্কার করে না।
Verse 83 — Surah Al-Maidah 5:83
আর যখন তারা শোনে যা রসূলের কাছে নাযিল হয়েছে, তুমি দেখবে তাদের চোখ অশ্রুপ্লাবিত হয়েছে সত্যতা তারা উপলব্ধি করেছিল বলে। তারা বলে -- ''আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি, তাই আমাদের লিখে রাখো সাক্ষ্যদাতাদের সঙ্গে।
Verse 84 — Surah Al-Maidah 5:84
আর কি কারণ আমাদের থাকতে পারে যার জন্য আমরা বিশ্বাস করবো না আল্লাহ্তে আর যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে তাতে, যখন আমরা আকুল আকাঙ্খা করি যে আমাদের প্রভু যেন সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করেন?’’
Verse 85 — Surah Al-Maidah 5:85
কাজেই আল্লাহ্ তাদের পুরস্কার দিয়েছিলেন যা তারা বলেছিল সেজন্য, -- বাগানসমূহ যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, তাতে তারা থাকবে চিরকাল। আর এটি হচ্ছে সৎকর্মীদের পুরস্কার।
Verse 86 — Surah Al-Maidah 5:86
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে ও আমাদের নির্দেশসমূহে মিথ্যারোপ করে, তারা হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা।
Verse 87 — Surah Al-Maidah 5:87
ওহে যারা ঈমান এনেছ! ভালো বিষয়গুলো যা আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন সে-সব তোমরা নিষিদ্ধ করো না, আবার বাড়াবাড়িও করো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ভালোবাসেন না সীমালঙ্ঘনকারীদের।
Verse 88 — Surah Al-Maidah 5:88
আর আল্লাহ্ তোমাদের যা হালাল ও ভালো রিযেক দিয়েছেন তা থেকে ভোগ করো আর আল্লাহ্কে ভয়-শ্রদ্ধা করো, -- যাঁর প্রতি তোমরা মুমিন হয়েছ।
Verse 89 — Surah Al-Maidah 5:89
আল্লাহ্ তোমাদের পাকড়াবেন না তোমাদের শপথগুলোর মধ্যে যা খেলো, কিন্তু তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন সেইসব শপথের জন্য যা তোমরা সেচ্ছাকৃতভাবে করো, তাই এর প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে দশজন গরীবকে খাওয়ানো, -- তোমাদের পরিজনকে তোমরা যেভাবে খাওয়াও সেইভাবে সাধারণ ধরনে, অথবা তাদের পরানো, অথবা একজন দাসকে মুক্ত করা। কিন্তু যে পায় না তবে তিন দিন রোযা। এ হচ্ছে তোমাদের শপথের প্রায়শ্চিত্ত যখন তোমরা হলফ করো। আর তোমাদের শপথ হেফাজতে রাখো। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তাঁর নির্দেশাবলী সুস্পষ্ট করেছেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।
Verse 90 — Surah Al-Maidah 5:90
ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিঃসন্দেহ মাদকদ্রব্য ও জুয়া, আর প্রস্তর বেদী বসানো ও তীরের লটারি খেলা -- নিশ্চয়ই হচ্ছে অপবিত্র, শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই এ-সব এড়িয়ে চলো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।
Verse 91 — Surah Al-Maidah 5:91
নিঃসন্দেহ শয়তান কেবলই চায় যে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগরিত হোক মাদকদ্রব্য ও জুয়ার মাধ্যমে, আর তোমাদের ফিরিয়ে রাখবে আল্লাহ্র গুণগান থেকে ও নামায থেকে। তোমরা কি তাহলে পরিহৃত থাকবে
Verse 92 — Surah Al-Maidah 5:92
অতএব আল্লাহ্কে অনুসরণ করো, আর রসূলের অনুগমন করো, আর সাবধান হও, কিন্তু যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে জেনে রেখো -- নিঃসন্দেহ আমাদের রসূলের উপরে হচ্ছে মাত্র স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।
Verse 93 — Surah Al-Maidah 5:93
যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করে যাচ্ছে তাদের উপরে কোনো অপরাধ হবে না যা তারা খেয়েছে সেজন্য, যখন তারা ভয়-শ্রদ্ধা করে ও ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, পুনরায় ভয়ভক্তি করে ও ঈমান আনে, আবার তারা ভয়শ্রদ্ধা করে ও ভালো করে। আর আল্লাহ্ ভালোবাসেন সৎকর্মশীলদের।
Verse 94 — Surah Al-Maidah 5:94
ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তোমাদের পরীক্ষা করবেন শিকারের কিছু ব্যাপারে যা তোমাদের হাত ও তোমাদের বর্শা নাগাল পায়, যেন আল্লাহ্ যাচাই করতে পারেন কে তাঁকে ভয় করে অগোচরে। কাজেই যে কেউ এর পরেও সীমালঙ্ঘন করে তার জন্য ব্যথাদায়ক শাস্তি।
Verse 95 — Surah Al-Maidah 5:95
ওহে যারা ঈমান এনেছ! শিকার হত্যা করো না যখন তোমরা হারামে থাকো। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ ইচ্ছা করে তা হত্যা ক’রে ক্ষতিপূরণ তবে হচ্ছে সে যা হত্যা করেছে তার অনুরূপ গবাদি-পশু থেকে যা ধার্য করে দেবে তোমাদের মধ্যের দুইজন ন্যায়বান লোক, সে কুরবানি পৌঁছানো চাই কা'বাতে, অথবা প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে গরীবকে খাওয়ানো, অথবা তার সমতুল্য রোযা রাখা, -- যেন সে তার কাজের দন্ড ভোগ করে। আল্লাহ্ মাফ করে দেন যা হয়ে গেছে। কিন্তু যে কেউ পুনরাবর্তন করে, আল্লাহ্ সেজন্য প্রতিফল দেবেন। আর আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী, প্রতিফল দানে সক্ষম।
Verse 96 — Surah Al-Maidah 5:96
তোমাদের জন্য বৈধ জলের শিকার আর তার খাদ্য তোমাদের জন্য ও পর্যটকদের জন্য উপকরণ, আর তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ ডাঙায় শিকার যে সময়ে তোমরা হারামে থাকো। আর ভয়শ্রদ্ধা করো আল্লাহ্কে, যাঁর কাছে তোমাদের একত্রিত করা হচ্ছে।
Verse 97 — Surah Al-Maidah 5:97
আল্লাহ্ পবিত্র গৃহ কা'বাকে বানিয়েছেন মানুষের জন্য এক অবলন্বন, আর পবিত্র মাস, আর উৎসর্গকৃত পশুদের, আর মালা- পরানো উটদের। এ-সব এই জন্য যে তোমরা যেন জানতে পারো -- আল্লাহ্ জানেন যা-কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে ও যা-কিছু আছে পৃথিবীতে, আর আল্লাহ্ সব-কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।
Verse 98 — Surah Al-Maidah 5:98
তোমরা জেনে রেখো যে আল্লাহ্ প্রতিফল দানে কঠোর, আর আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Verse 99 — Surah Al-Maidah 5:99
রসূলজনের উপরে অন্য দায়িত্ব নেই পৌঁছে দেয়া ছাড়া। আর আল্লাহ্ জানেন যা তোমরা প্রকাশ করো আর যা লুকিয়ে রাখো।
Verse 100 — Surah Al-Maidah 5:100
বলো -- ''মন্দ আর ভালো সমতুল্য নয়’’, যদিও মন্দের প্রাচুর্য তোমাকে তাজ্জব বানিয়ে দেয়। কাজেই আল্লাহ্কে ভয়শ্রদ্ধা করো, হে বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ! যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।
Verse 101 — Surah Al-Maidah 5:101
ওহে যারা ঈমান এনেছ! সে-সব বিষয় সন্বন্ধে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে ব্যক্ত করলে তোমাদের অসুবিধা হতে পারে। আর যদি তোমরা সে-সব বিষয়ে প্রশ্ন করো যে সময়ে কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছে তবে তোমাদের জন্য ব্যক্ত করা হবে। আল্লাহ্ এটি থেকে মাফ করেছেন, কেননা আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অতি অমায়িক।
Verse 102 — Surah Al-Maidah 5:102
তোমাদের পূর্বে একটি দল এ-ধরনের প্রশ্ন করতো, তারপর সেইসব কারণে পরমুহূর্তে তারা হলো অবিশ্বাসী।
Verse 103 — Surah Al-Maidah 5:103
আল্লাহ্ তৈরি করেন নি কোনো বাহীরাহ্, বা সা’ইবাহ্, বা ওস্বীলাহ্, বা হামি, কিন্তু যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে এই মিথ্যা রচনা করেছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝতে পারে না।
Verse 104 — Surah Al-Maidah 5:104
আর যখন তাদের বলা হয় -- ''আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তার দিকে আর রসূলের দিকে এস’’, তারা বলে -- ''আমাদের জন্য এ-ই যথেষ্ট যার উপরে আমাদের পিতৃপুরুষদের দেখেছি।’’ কী! যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানতো না আর তারা হেদায়তও গ্রহণ করে নি।
Verse 105 — Surah Al-Maidah 5:105
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের উপরে ভার রয়েছে তোমাদের জীবনের, যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যদি তোমরা পথনির্দেশ মেনে চল। আল্লাহ্র কাছেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তোমাদের জানাবেন কী তোমরা করতে।
Verse 106 — Surah Al-Maidah 5:106
ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন মৃত্যু তোমাদের কারো কাছে হাজির হয় তখন তোমাদের মধ্যে সাক্ষী ডাকো ওছিয়ৎ করবার সময়ে, -- দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোক তোমাদের মধ্যে থেকে, অথবা অপর দুইজন তোমাদের বাইরের থেকে -- যদি তোমরা দেশ- ভ্রমণে থাকো আর তোমাদের উপরে মৃত্যুর বিভীষিকা ঘটে। এ দু’জনকে তোমরা ধরে রাখবে নামাযের পরে, আর যদি তোমরা সন্দেহ করো তবে তারা উভয়ে আল্লাহ্র নামে শপথ করুক -- ''আমরা এটি বিক্রি করবো না যে কোনো দামে, যদিও বা নিকট-আত্মীয় হয়, আর আমরা সাক্ষ্য লুকাবো না, কেননা তাহলে আমরা নিশ্চয়ই পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’’
Verse 107 — Surah Al-Maidah 5:107
পক্ষান্তরে যদি আবিস্কার করা হয় যে তাদের দু’জনই পাপের যোগ্যতা লাভ করেছে তবে তাদের স্থলে দাঁড়াক অপর দুইজন তাদের মধ্যে থেকে যাদের দাবি উল্টানো হয়েছে প্রথম দুইজনের দ্বারা, তখন তারা আল্লাহ্র নামে কসম খাক -- ''আমাদের দু’জনের সাক্ষ্য ঐ দুইজনের সাক্ষ্যের চাইতে অধিকতর সত্য, আর আমরা সীমা লঙ্ঘন করি নি, কেননা তবে নিঃসন্দেহ আমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’’
Verse 108 — Surah Al-Maidah 5:108
এইভাবে এটি অধিক সম্ভবপর যে তারা সাক্ষ্য দেবে তাদের মুখের উপর, অথবা তারা আশংকা করবে যে অন্য শপথ তাদর শপথকে পরবর্তীকালে বাতিল ক’রে দেবে। আর আল্লাহ্কে ভয়ভক্তি করো ও শোন। আর আল্লাহ্ হেদায়ত করেন না অবাধ্য লোকদের।
Verse 109 — Surah Al-Maidah 5:109
যেদিন আল্লাহ্ রসূলগণকে একত্রিত করবেন, তারপর বলবেন -- ''তোমাদের কী জবাব দেয়া হয়েছিল?’’ তাঁরা বলবেন -- ''আমাদের কিছু জানা নেই, নিঃসন্দেহ তুমিই অদৃশ্য সন্বন্ধে পরিজ্ঞাত।’’
Verse 110 — Surah Al-Maidah 5:110
তখন আল্লাহ্ বলবেন -- ''হে মরিয়ম-পুত্র ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ করো। স্মরণ করো! কেমন ক’রে তোমাকে আমি 'রূহুল ক্কুদুস’ দিয়ে বলীয়ান করেছিলাম, তুমি লোকদের সঙ্গে কথা বলেছিলে দোলনায় থাকাকালে ও বার্ধক্যকালে, আর স্মরণ করো! কেমন ক’রে তোমাকে শিখিয়েছিলাম কিতাব ও জ্ঞান-বিজ্ঞান, আর তওরাত ও ইনজীল, আর স্মরণ করো! কেমন করে তুমি মাটি দিয়ে তৈরি করতে পাখির মতো মূর্তি আমার অনুমতিক্রমে, তারপর তুমি তাতে ফুৎকার দিতে, তখন তা পাখি হয়ে যেত আমার অনুমতিক্রমে, আর তুমি আরোগ্য করতে জন্মান্ধকে ও কুষ্ঠরোগীকে আমার অনুমতিক্রমে, আর স্মরণ করো! কেমন ক’রে তুমি মৃতকে বের করতে আমার অনুমতিক্রমে, আর স্মরণ করো! কেমন ক’রে আমি ইসরাইলবংশীয় লোকদের নিবৃত্ত রেখেছিলাম তোমা থেকে যখন তুমি তাদের কাছে এসেছিলে স্পস্প্রমাণাবলী নিয়ে।’’ কিন্তু তাদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তারা বলেছিল -- ''এ স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
Verse 111 — Surah Al-Maidah 5:111
আর স্মরণ করো! আমি হাওয়ারিদের কাছে প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম এই বলে -- ''তোমরা আমার প্রতি ও আমার রসূলের প্রতি ঈমান আনো।’’ তারা বলেছিল -- ''আমরা ঈমান আনলাম, আর তুমি সাক্ষী থেকো যে আমরা নিশ্চয়ই আত্মসমর্পিত।
Verse 112 — Surah Al-Maidah 5:112
স্মরণ করো! হাওয়ারিগণ বলেছিল -- ''হে মরিয়ম-পুত্র ঈসা! তোমার প্রভু কি আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য-পরিবেশিত টেবিল পাঠাতে রাজি হবেন?’’ তিনি বলেছিলেন -- ''আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করো যদি তোমরা মুমিন হও।’’
Verse 113 — Surah Al-Maidah 5:113
তারা বলেছিল -- ''আমরা চাই যে আমরা যেন তা থেকে আহার করি, আর আমাদের চিত্ত যেন পরিতৃপ্ত হয়, আর যেন আমরা জানতে পারি যে তুমি আমাদের কাছে হককথাই বলেছিলে, আর আমরা যেন সে-বিষয়ে সাক্ষীদের মধ্যেকার হতে পারি।’’
Verse 114 — Surah Al-Maidah 5:114
মরিয়ম-পুত্র ঈসা বললেন -- ''হে আল্লাহ্! আমাদের প্রভু! আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য-পরিপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করো, যা হবে আমাদের জন্য এক ঈদ, -- আমাদের অগ্রগামীদের জন্য ও পশ্চাদগামীদের জন্য, আর তোমার কাছ থেকে একটি নিদর্শন, আর আমাদের রিযেক দান করো, কেননা তুমিই রিযেকদাতাদের সর্বোত্তম।’’
Verse 115 — Surah Al-Maidah 5:115
আল্লাহ্ বললেন -- ''আমি অবশ্যই তা তোমাদের জন্য পাঠাব, কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ এরপরেও অবিশ্বাস পোষণ করবে আমি তবে তাকে নিশ্চয়ই এমন শাস্তিতে শাস্তি দেবো যেমন শাস্তি আমি বিশ্বজগতের অপর কাউকেও দেবো না।’’
Verse 116 — Surah Al-Maidah 5:116
আর দেখো! আল্লাহ্ বলবেন -- ''হে মরিয়ম-পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে -- “আমাকে ও আমার মাকে আল্লাহ্ ছাড়া দুইজন উপাস্যরূপে গ্রহণ করো?’’ তিনি বলবেন -- ''তোমারই সব মহিমা! এটি আমার পক্ষে সম্ভবপর নয় যে আমি তা বলবো যাতে আমার কোনো অধিকার নেই। যদি আমি তা বলতাম তবে তুমি তা নিশ্চয়ই জানতে। আমার অন্তরে যা আছে তা তুমি জানো, আর আমি জানি না কি আছে তোমার অন্তরে। নিঃসন্দেহ কেবল তুমিই অদৃশ্য সন্বন্ধে পরিজ্ঞাত।
Verse 117 — Surah Al-Maidah 5:117
আমি তাদের বলি নি তুমি যা আমাকে আদেশ করেছ তা ছাড়া অন্য কিছু, যথা -- 'তোমরা আল্লাহ্র উপাসনা করো যিনি আমার প্রভু ও তোমাদের প্রভু’, আর আমি তাদের সাক্ষী ছিলাম যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, কিন্তু যখন তুমি আমার মৃত্যু ঘটালে তখন তুমিই ছিলে তাদের উপরে প্রহরী। আর তুমিই হচ্ছো সব-কিছুরই সাক্ষী।
Verse 118 — Surah Al-Maidah 5:118
তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই দাস, আর যদি তাদের তুমি পরিত্রাণ করো তবে তুমিই তো মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।’’
Verse 119 — Surah Al-Maidah 5:119
আল্লাহ্ বলবেন -- ''এই দিনে সত্যনিষ্ঠদের তাদের সত্যপরায়ণতা উপকৃত করবে। তাদের জন্য রয়েছে স্বর্গোদ্যানসমূহ যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, তারা সেখানে থাকবে চিরকাল। আল্লাহ্ তাদের উপরে সুপ্রসন্ন আর তারা তাঁতে চির-সন্তষ্ট -- এটি হচ্ছে এক বিরাট সাফল্য।
Verse 120 — Surah Al-Maidah 5:120
মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব ও তাদের মধ্যে যা-কিছু আছে সে-সবই আল্লাহ্র। আর তিনি হচ্ছেন সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।