Back to Languages
Bengali - Chapter 56
Translation by Abu Bakr Zakaria
Verse 1
যখন সংঘটিত হবে কিয়ামত [১]
Verse 2
(তখন) এটার সংঘটন মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না [১]।
Verse 3
এটা কাউকে করবে নীচ, কাউকে করবে সমুন্নত [১]
Verse 4
যখন প্ৰবল কম্পনে প্ৰকম্পিত হবে যমীন
Verse 5
এবং চূৰ্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে পর্বতমালা
Verse 6
অতঃপর তা পর্যবসিত হবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায়
Verse 7
আর তোমারা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে --- [১]
Verse 8
অতঃপর ডান দিকের দল; ডান দিকের দলটি কত সৌভাগ্যবান [১]
Verse 9
এবং বাম দিকের দল; আর বাম দিকের দলটি কত হতভাগা [১]
Verse 10
আর অগ্রবর্তিগণই তো অগ্রবর্তী [১]
Verse 11
তারাই নৈকট্যপ্ৰাপ্ত
Verse 12
নি'আমতপূর্ণ উদ্যানে
Verse 13
বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে
Verse 14
এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে [১]।
Verse 15
স্বৰ্ণ ও দামী পাথর খচিত আসনে
Verse 16
তারা হেলান দিয়ে বসবে, পরস্পর মুখোমুখি হয়ে [১]।
Verse 17
তাদের আশেপাশে ঘুরাফিরা করবে চির - কিশোরেরা [১]
Verse 18
পানপাত্র, জগ ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে [১]।
Verse 19
সে সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না, তারা জ্ঞানহারাও হবে না--- [১]
Verse 20
আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফলমূল নিয়ে [১]
Verse 21
আর তাদের ঈন্সিত পাখীর গোশত নিয়ে [১]।
Verse 22
আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হূর
Verse 23
যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা [১]
Verse 24
তাদের কাজের পুরস্কারস্বরূপ।
Verse 25
সেখানে তারা শুনবে না কোন অসার বা পাপবাক্য [১]
Verse 26
‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ছাড়া।
Verse 27
আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল
Verse 28
তারা থাকবে এমন উদ্যানে, যাতে আছে [১] কাঁটাহীন কুলগাছ [২]
Verse 29
এবং কাঁদি ভরা কলা গাছ
Verse 30
আর সম্প্রসারিত ছায়া [১]
Verse 31
আর সদা প্রবাহমান পানি
Verse 32
ও প্রচুর ফলমূল
Verse 33
যা শেষ হবে না ও যা নিষিদ্ধও হবেনা [১]।
Verse 34
আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ [১]
Verse 35
নিশ্চয় আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে [১]
Verse 36
অতঃপর তাদেরকে করেছি কুমারী [১]
Verse 37
সোহাগিনী [১] ও সমবয়স্কা [২]
Verse 38
ডানদিকের লোকদের জন্য।
Verse 39
তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে
Verse 40
এবং অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে [১]।
Verse 41
আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বামদিকের দল
Verse 42
তারা থাকবে অত্যন্ত উষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে
Verse 43
আর কালোবর্ণের ধূঁয়ার ছায়ায়
Verse 44
যা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়।
Verse 45
ইতোপূর্বে তারা তো মগ্ন ছিল ভোগ-বিলাসে
Verse 46
আর তারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকাজে।
Verse 47
আর তারা বলত, ‘মরে অস্থি ও মাটিতে পরিণত হলেও কি আমাদেরকে উঠানো হবে
Verse 48
এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও?’
Verse 49
বলুন, ‘অবশ্যই পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা
Verse 50
সবাইকে একত্র করা হবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।
Verse 51
তারপর হে বিভ্রান্ত মিথ্যারোপকারীরা
Verse 52
তারা অবশ্যই আহার করবে যাক্কূম গাছ থেকে
Verse 53
অতঃপর সেটা দ্বারা তারা পেট পূর্ণ করবে
Verse 54
তদুপরি তারা পান করবে তার উপর অতি উষ্ণ পানি
Verse 55
অতঃপর পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের ন্যায়।
Verse 56
প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
Verse 57
আমরাই [১] তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা বিশ্বাস করছ না
Verse 58
তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে
Verse 59
সেটা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমরা সৃষ্টি করি [১]
Verse 60
আমরা তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারিত করেছি [১] এবং আমাদেরকে অক্ষম করা যাবে না
Verse 61
তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না [১]।
Verse 62
আর অবশ্যই তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ করা না কেন [১]
Verse 63
তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা করেছ কি [১]
Verse 64
তোমরা কি সেটাকে অংকুরিত কর, না আমরা অংকুরিত করি
Verse 65
আমরা ইচ্ছে করলে এটাকে খড়-কুটোয় পরিণত করতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে তোমরা
Verse 66
(এই বলে) ‘নিশ্চয় আমরা দায়গ্ৰস্ত হয়ে পড়েছি,’
Verse 67
বরং ‘আমরা হৃত-সর্বস্ব হয়ে পড়েছি।’
Verse 68
তোমরা যে পানি পান কর তা সম্পর্কে আমাকে জানাও [১]
Verse 69
তোমরা কি সেটা মেঘ হতে নামিয়ে আন, না আমরা সেটা বর্ষণ করি
Verse 70
আমরা ইচ্ছে করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না
Verse 71
তোমরা যে আগুন প্ৰজ্বলিত করা সে ব্যাপারে আমাকে বল
Verse 72
তোমরাই কি এর গাছ সৃষ্টি কর, না আমরা সৃষ্টি করি
Verse 73
আমরা এটাকে করেছি স্মারক [১] এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু [২]।
Verse 74
কাজেই আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন [১]।
Verse 75
অতঃপর [১] আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের [২]
Verse 76
আর নিশ্চয় এটা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে
Verse 77
নিশ্চয় এটা মহিমান্বিত কুরআন [১]
Verse 78
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে [১]।
Verse 79
যারা সম্পূর্ণ পবিত্র তারা ছাড়া অন্য কেউ তা সম্পর্শ করে না [১]।
Verse 80
এটা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
Verse 81
তবুও কি তোমরা এ বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করছ [১]
Verse 82
আর তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের রিযিক করে নিয়োছ [১]
Verse 83
সুতরাং কেন নয়---প্ৰাণ যখন কণ্ঠাগত হয় [১]
Verse 84
এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক
Verse 85
আর আমরা তোমাদের চেয়ে তার কাছাকাছি, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না [১]।
Verse 86
অতঃপর যদি তোমরা হিসাব নিকাশ ও প্রতিফলের সম্মুখীন না হও [১]
Verse 87
তবে তোমরা ওটা [১] ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও
Verse 88
অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্ৰাপ্তদের একজন হয়
Verse 89
তবে তার জন্য রয়েছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান [১]
Verse 90
আর যদি সে ডান দিকের একজন হয়
Verse 91
তবে তাকে বলা হবে, তোমাকে সালাম যেহেতু তুমি ডান দিকের একজন ৷’
Verse 92
কিন্তু সে যদি হয় মিথ্যারোপকারী, বিভ্রান্তদের একজন
Verse 93
তবে তার আপ্যায়ন হবে অতি উষ্ণ পানির
Verse 94
এবং দহন জাহান্নামের
Verse 95
নিশ্চয় এটা সুনিশ্চিত সত্য।
Verse 96
অতএব আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন [১]।